জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
নিহত খালেদা বিবি (৩৫) এলতা গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে। প্রায় দুই যুগ আগে কালাই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুল বাকীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী আবদুল বাকি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের শুরু থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশান্তি ছিল। স্বামীর সন্দেহপ্রবণ আচরণ ও আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায়ই কলহ সৃষ্টি হতো। অভিযোগ রয়েছে, আবদুল বাকি নিয়মিত স্ত্রীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করতেন এবং তাকে পরকীয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করতেন। এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
ঘটনার দিন দুপুরে খালেদা মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন। বিষয়টি দেখে স্বামীর মনে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় স্বামী তাকে মারধর করেন এবং তার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা হস্তক্ষেপ করেন। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা শোনার পর স্থানীয়রা খালেদার স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন তার কাছে ফিরিয়ে দেন এবং ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন বলে জানা গেছে।
তবে গভীর রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। আনুমানিক রাত ৩টার দিকে সেহরির সময় বাড়িতে থাকা দুইজন কাজের লোক আবদুল বাকিকে ডাকতে গেলে তিনি দরজা খুলে দ্রুত বেরিয়ে যান। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা ঘরে প্রবেশ করে খালেদাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্রনাথ সিংহ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ এবং সন্দেহের জেরে এমন মর্মান্তিক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
