চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ফারজানা আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার এই মৃত্যু এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়নের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার মহিলা মেম্বার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত ফারজানা আক্তার প্রিয়া স্থানীয় নুরুল আবসারের ছেলে মেসবাহ উদ্দিন রানার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি একই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের নজর আলী ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায়। তিনি মোমিনুল ইসলামের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে মেসবাহ উদ্দিন রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের কোনো সন্তান ছিল না। সম্প্রতি ফারজানা আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। স্বামী মেসবাহ উদ্দিন রানা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
ফারজানার ভাই মো. জিদান বলেন, তার বোনের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তিনি অভিযোগ করেন, তার দুলাভাই বিভিন্ন সময় নেশা করে ফারজানাকে নির্যাতন করতেন। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পরিবারে কিছুটা আনন্দ নিয়ে এলেও সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইফতারের কিছুক্ষণ পর তিনি খবর পান, তার বোন আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বোনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সেই নির্যাতনের কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, ফারজানা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকার পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এক নারীর এভাবে মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পরিবার থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ফারজানা আক্তারের মৃত্যু রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ঘটেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির মাধ্যমে প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়েছে।
