
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া শিল্প শহরের উড়োতলা এলাকায় অবস্থিত রোমান জুট মিলে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শিল্পাঞ্চলে হঠাৎ আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মিলের ইলেকট্রনিক ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, পাটের ব্যাক সাইড অংশে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে প্রথমে আগুন লাগে। এরপর তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত বিস্তারের সম্ভাবনা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করেনি।
নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও জানান, দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মিলের ভেতরে থাকা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিল্প এলাকায় আগুন লাগার খবর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকার কারণে আগুন বিস্তার লাভ করেনি। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মিলের জেনারেল ম্যানেজার মিরাজুল ইসলাম বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ও যন্ত্রপাতির বিস্তারিত মূল্যায়নের পর প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর মালোপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শেখ সাদী খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করেন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
নওয়াপাড়া শিল্প শহর এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন কারখানার জন্য এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদ্যুতিক লাইনের নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে এ ধরনের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সার্বিকভাবে বলা যায়, দ্রুত সাড়া ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। এখন তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ শেষে পুরো ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।