
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ শোকবার্তা প্রকাশ করেন।
ফেসবুক বার্তায় ডা. শফিকুর রহমান ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শোকসন্তপ্ত ইরানি জাতির প্রতি তার আন্তরিক সহমর্মিতা রইল। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণ ধৈর্য ও শক্তি অর্জন করতে পারেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে মানবিক সংহতি ও সহানুভূতির প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই গভীর অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। যদি এই পরিস্থিতি আরও সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব কেবল একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চল ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে পারে।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ সময় যেকোনো ধরনের হামলা বা সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দেবে। তার মতে, এমন পরিস্থিতি বিশ্বশান্তিকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারে। তিনি মনে করেন, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বা শক্তি প্রদর্শনের পরিবর্তে আলোচনাই স্থায়ী সমাধানের একমাত্র কার্যকর উপায় হতে পারে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিরীহ মানুষের সুরক্ষা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। বৈশ্বিক নেতৃত্ব যদি দ্রুত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়, তবে বর্তমান উত্তেজনা প্রশমিত করা সম্ভব হতে পারে।
তার এই শোকবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ডা. শফিকুর রহমানের এই আহ্বান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।
সব মিলিয়ে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায় ডা. শফিকুর রহমান মানবিক সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি সংঘাত পরিহার ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যে সংযম, আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানই প্রধানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।