
নাটোরের লালপুর উপজেলার দারুল হিকমাহ্ মডেল মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আব্দুল আজিজ (২২)কে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার আজিজুল হকের পরিবারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ফারাবি হোসেন (৯) ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শিক্ষক আব্দুল আজিজের দ্বারা জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় এবং তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার করা হয়। ঘটনায় শিশুটির শরীরে রক্তক্ষরণ হয় এবং পরবর্তীতে সে পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়। শিশুটিকে নিরাপদে রাখার জন্য তার পরিবার শনিবার সকালেই তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ফারাবি হোসেনের বাড়ি লালপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শিক্ষক আব্দুল আজিজকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে। “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছি। তদন্তের পরে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রায়শই আবাসিক থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সতর্কতার তাগিদ দিচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত তদারকি চালাতে হবে।
শিশু নির্যাতনের এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে সুসংহত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে এমন ভয়াবহ ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।
এই ঘটনার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে শিশুর সুরক্ষা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। এছাড়া মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করে পুলিশ জানিয়েছে, “এই ধরনের অপরাধ দমন করা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য, এবং এ ধরনের ঘটনা যারা সংঘটিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাটোরের এই ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতার গুরুত্বের প্রতি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। শিশুদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে অভিভাবক ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা এখন অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফলে, নাটোরের লালপুরে দারুল হিকমাহ্ মডেল মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেফতারের এই ঘটনা শিশু সুরক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ন বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।