
কুমিল্লার তিতাস ও হোমনা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চারজন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের পৃথক চিঠিতে এই বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মুন্সী, সাংগঠনিক সম্পাদক যুবরাজ ইসলাম রাসেল ওরফে মো. রাসেল ইসলাম এবং হোমনা উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিবর পাঠান রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনের সময় অন্য প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
তিতাস উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া জানান, “দলীয় পদে থাকা অবস্থায় চারজন নেতার কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তারা নির্বাচনের সময়ে দলের নির্দেশনা অমান্য করে অন্য প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি হ্রাস পেয়েছে। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কার করা নেতাদের সঙ্গে দলীয় কোন সম্পর্ক আর থাকবে না। এছাড়া বহিষ্কৃত নেতারা দলের কোনো সভা, কার্যক্রম বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দলের শৃঙ্খলা ও একতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দলীয় রীতিনীতি অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নির্বাচনের সময় এই ধরনের পদক্ষেপ পূর্বনির্ধারিত এবং নিয়মিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় নেতাদের এই বহিষ্কার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা দৃঢ় করার লক্ষ্যকে সামনে রাখে। নির্বাচনের সময় দলীয় নেতাদের আচরণ ও দায়িত্ব পালন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্থানীয় ক্ষমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও দলের সাধারণ কর্মীরা জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বহিষ্কৃত নেতারা দলের স্থানীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে অন্য নেতাদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনা তিতাস ও হোমনা উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুনভাবে সচেতন করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনী ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দলীয় নেতৃত্ব এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব ও নিয়ম অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ফলে, কুমিল্লার তিতাস ও হোমনা উপজেলায় বিএনপির চারজন নেতাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নির্বাচনী সততা নিশ্চিত করতে বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।