
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রবিবার (১ মার্চ) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মির্জা ফখরুল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং পরিচালনায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা ভাবছি হাসপাতালটিকে আরও উন্নত করা যায় কিনা। এখানে একটি মেডিকেল কলেজ করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে, এবং জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হলে স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত হবে।”
বর্তমান সময়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার। মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন, নতুন মেডিকেল কলেজের সাথে মিলিয়ে এটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধুমাত্র হাসপাতালের পরিধি বৃদ্ধি হবে না, বরং এলাকার মানুষের জন্য উন্নত মানের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালের সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সহায়তা সরকারের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক হাসপাতালের জন্য একটি নতুন লিফট স্থাপনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের চলাচল সহজ হয়।
মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেছেন, হাসপাতালের সিভিল সার্জনসহ সকল কর্মকর্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, “সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমরা চেষ্টা করব, যাতে সাধারণ মানুষ ভালো চিকিৎসা পান। যারা দীর্ঘদিন হাসপাতাল পরিচালনায় রয়েছেন তাদের অভিজ্ঞতাকেও আমরা কাজে লাগাব।”
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল জেলা হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং জানিয়েছেন যে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় জনগণকে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের ফলে জেলা হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নয়, বরং শিক্ষণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সবসময় সজাগ থাকব। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজ ও উন্নত চিকিৎসা পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।” এই পদক্ষেপ জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ আশা করছেন, নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা খাতে দীর্ঘদিনের অভাব পূরণ হবে এবং জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।