
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো সমস্ত পক্ষকে দ্রুত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই ধরনের ‘অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপগুলোর’ দ্রুত একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টায় তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ‘তথাকথিত শান্তিপ্রতিষ্ঠাকারী যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার আসল রূপ দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সমস্ত আলোচনাই ছিল মূলত সাজানো নাটক। কোনো পক্ষই আসলেই সমঝোতা করতে চায়নি।’ মেদভেদেভ আরও বলেন, ‘এখন মূল প্রশ্ন হলো, শত্রুর কঠিন পরিণতির জন্য কার ধৈর্য বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের বয়স মাত্র ২৪৯ বছর, কিন্তু পারস্য সাম্রাজ্য আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত। আগামী শতাব্দীতে কী ঘটবে, দেখা যাক।’
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২-এর বরাতে জানা গেছে, শনিবারের এক হামলায় খামেনি সম্ভবত নিহত হয়েছেন। চ্যানেলটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চ্যানেল-১২ আরও জানিয়েছে, খামেনি হামলার সময় অন্তত আহত হয়েছেন, তবে এটি স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে নয়, বরং অজ্ঞাত ইসরায়েলি সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইরানি নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির বিষয়টি প্রকাশ করেছে, যদিও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা যায়নি।
এর আগে রয়টার্সের এক ইরানি সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই এবং তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও একই দিন বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। খামেনির নিরাপত্তা ও অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
সংক্ষেপে, রাশিয়ার আহ্বান ও ইসরায়েলি সূত্রের তথ্যের মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং অঞ্চলের দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, যাতে সামরিক সংঘাত আরও বৃদ্ধি না পায়। এই পরিস্থিতি ইরানের নেতৃত্ব, বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ খামেনির নিরাপত্তা ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর বিশেষ নজর রাখছে।