
একুশে বইমেলার তৃতীয় দিনে শিশুরা পেল নিজেদের আনন্দের মুহূর্ত। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পর ছোট্ট সোনামণিদের জন্য বইমেলার দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এই বছর সিসিমপুর থাকছে না, তবে তার ঘাটতি যেন কিছুটা মেটেছে কাকতাড়ুয়া পাপেট শোয়েই। গল্প, ছড়া গান এবং বায়স্কোপের রঙিন জগতে শিশুরা মগ্ন হয়ে সময় কাটাচ্ছে।
ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই বইমেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছে ক্ষুদে পাঠকরা। যদিও প্রতিবারের মতো প্রাণঘন বইমেলা নয়, শিশুরা তাদের আলাদা এক জগৎ খুঁজে পেয়েছে। ছোট্ট শিশুরা বই খুঁজছে, শোনছে গল্প, এবং পাপেট শোতে চোখের আনন্দে মগ্ন।
এই বছর শিশু কর্নারটি স্থানান্তর করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে। পরিসর কিছুটা ছোট হলেও শিশুরা বই কেনা, ঘুরে দেখা এবং শো উপভোগে কোনো ভোগান্তি অনুভব করছে না। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, শিশুতোষ বইয়ের প্রতি আগ্রহ আশাজাগানো। বিকেলেই শিশু কর্নারে আরও জমে উঠবে ভিড়।
শনিবার মেলায় নতুন বই জমা পড়েছে ১৩টি। প্রতিদিনের মতো বিকেলে আয়োজন করা হবে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। শিশুদের জন্য গল্প পাঠ, ছড়া গান এবং পাপেট শো মিলিয়ে বইমেলার দ্বিতীয় শিশুপ্রহর তাদের আনন্দে ভরিয়ে তুলেছে।
শিশুরা বইমেলায় আসার মাধ্যমে শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষারও সুযোগ পাচ্ছে। ছোট বয়স থেকেই শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠা এবং সংস্কৃতি-বিনোদনমুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
শুধু শিশু নয়, তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরাও বইমেলার পরিবেশ উপভোগ করছেন। শিশুরা শিখছে কল্পনা শক্তি, সৃজনশীলতা এবং মননশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে। এই শিশু কর্নার বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।
বইমেলার এই শিশু কর্নার উৎসব প্রমাণ করছে, কাকতাড়ুয়া পাপেট শো, গল্প, ছড়া গান এবং বায়স্কোপের রঙিন দুনিয়া শিশুর আনন্দের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। শিশুদের এই আনন্দমুখর সময় আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও বিনোদনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।