প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 28, 2026 ইং
রমজানে কম ঘুমের সমস্যা এড়ানোর সহজ উপায়

রমজান মাসে দৈনন্দিন রুটিনে বড় পরিবর্তন আসে। সেহরি, ইফতার এবং তারাবি মিলিয়ে অনেক রোজাদারের ঘুমের সময় কমে যায়। এর ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি এবং শরীরের শক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু সচেতনতা মানলেই এই সমস্যাগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. ঘুম ভাগাভাগি করুন
রাতের টানা ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম সম্ভব না হলে ৪–৫ ঘণ্টা রাতের ঘুমের সঙ্গে দিনে ৩০–৬০ মিনিট পাওয়ার ন্যাপ নিন। এতে শরীর ও মস্তিষ্ক কিছুটা রিফ্রেশ হয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে।
২. সেহরির পর হালকা ঘুম
সেহরি ও ফজরের নামাজের পর ৩০–৪৫ মিনিট হালকা ঘুম শরীরের শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে। এটি ঘুমের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারে।
৩. ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ইফতারের পর অতিরিক্ত চা-কফি খেলে ঘুম আসতে দেরি হয়। বিশেষ করে রাতের তারাবির পর ক্যাফেইন এড়ানো উচিত।
৪. হালকা ও পরিমিত খাবার খান
ইফতারে ভারী ভাজা খাবার বা অতিরিক্ত মিষ্টি ঘুম ব্যাহত করতে পারে। খেজুর, ফল, পানি এবং হালকা প্রোটিন খাদ্য তালিকায় রাখুন। ধীরে ধীরে খাওয়া হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে।
৫. নির্দিষ্ট ঘুমের সময় মেনে চলুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া শরীরকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। এটি ঘুমের মানও উন্নত করে এবং ক্লান্তি কমায়।
৬. মোবাইল ও স্ক্রিন কম ব্যবহার করুন
ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা টিভি দেখলে মস্তিষ্ক উত্তেজিত থাকে। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্ক্রিন বন্ধ করুন।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানিশূন্যতা ক্লান্তি বাড়ায়। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়।
সতর্ক হওয়ার লক্ষণ:
-
দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতিতে মাথা ঘোরা, বুকে ধড়ফড়, অতিরিক্ত অবসাদ বা মনমরা ভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
-
রমজান ইবাদতের মাস, তবে শরীর সুস্থ থাকলে মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করা সম্ভব। সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে ঘুমের ঘাটতি সামলে সুস্থ থাকুন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা