
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন সম্প্রতি বিসিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে তিনি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে না থাকলেও বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থাকেন। সুজনের মতে, বোর্ডের কার্যক্রম ঠিকমতো চলছে না এবং নানান ক্ষেত্রে বর্তমান পর্ষদ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিসিবিতে সবাই খারাপ নয়, আবার সবাই ভালোও নয়। ঘরোয়া ক্রিকেট হচ্ছে না, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি। আরও অনেক সমস্যা রয়েছে যা ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়। তবে বোর্ডের প্রতিটি সদস্যকে খারাপ বা ভালো বলে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।”
সুজন আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বোর্ডকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, “নতুন সরকার ও নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী এসেছেন, তিনি দেখবেন কিভাবে বোর্ডের কার্যক্রম সঠিকভাবে চালানো যায়। গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলা মাঠে সচল থাকা এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “বিসিবিতে ভালো একটি নির্বাচন হওয়া দরকার। নির্বাচিত বোর্ডে যোগ্য মানুষ থাকলে খেলাধুলার মান উন্নত হবে। জনসাধারণই তখন বোর্ডের সদস্য বেছে নেবে। নির্বাচিত বোর্ডকে কিভাবে পরিবর্তন বা সরানো হবে, তা সরকার ঠিক করবে।”
সুজনের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “দিনশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলাধুলার অবস্থা, যাতে তা সঠিকভাবে মাঠে চলে। বোর্ডের সমস্ত কার্যক্রম ক্রিকেটের জন্য সহায়ক হতে হবে।”
সুজনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি বিসিবির সকল কর্মকাণ্ডকে নিন্দা করছেন না, বরং কাঠামোগত ও প্রশাসনিক দিক থেকে উন্নতি প্রয়োজন মনে করছেন। তিনি মনে করেন, যোগ্য ও নির্বাচিত ব্যক্তিরা বোর্ডে আসলে বোর্ডের কার্যক্রমের মান বৃদ্ধি পাবে।
সুজনের দৃষ্টি ঘরোয়া ক্রিকেটের উপর বেশি। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ঘরোয়া ক্রিকেট ব্যর্থ হলে তা আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করতে পারার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেছেন, যা দেশের ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সুজনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, নতুন ক্রীড়া মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিসিবির পুনর্গঠন এবং একটি যোগ্য নির্বাচিত বোর্ডের আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়ন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কাঠামোতে স্বচ্ছতা থাকা আবশ্যক।