
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা-এ ইভটিজিং প্রতিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম (৩৫) শনিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রশিদপুর গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের কাশিনাথপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক দীর্ঘদিন ধরে রশিদপুর উত্তরপাড়ায় গিয়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে রশিদপুর গ্রামের লোকজন তাদের একাধিকবার সতর্ক করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার রাতে রশিদপুর গ্রামের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে রশিদপুর উত্তরপাড়ার কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত শাহ আলমকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, যা এলাকায় আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলেই টহল জোরদার করেছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের প্রতিরোধের সময় যদি সঠিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে, তা সহিংস সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজকর্মী ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যস্থতা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত সচেতনতা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং গ্রামের যুবক-যুবতীদের সঙ্গে সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের এই ঘটনা দেশের স্থানীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির ওপর গুরুত্বপূর্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঝিনাইদহ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া অঞ্চলের অন্যান্য পুলিশ সার্কেলকে সতর্ক করে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে যাতে এমন সহিংসতা অন্য এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে।