
ইরানের রাজধানী তেহরান-এর পাস্তৌর এলাকায়, যেখানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র বাসভবন ও কার্যালয় অবস্থিত, সেখানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) CNN-এর লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়, খামেনির বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে ইরানি গণমাধ্যমেও পাস্তৌর জেলায় একাধিক বিস্ফোরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পাস্তৌর এলাকা তেহরানের অন্যতম উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয় ও নিরাপত্তা স্থাপনা অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম Fars News Agency দাবি করেছে, অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
খামেনির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর আগে ইরানের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা Reuters-কে জানিয়েছেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি রাজধানীতে অবস্থান করছেন না এবং তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানি শাসনব্যবস্থার আসন্ন হুমকি দূর করা এবং মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন তথ্য প্রকাশ করছে।
ঘটনার পর তেহরানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সরকারি পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি না এলেও পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।