
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিগত নির্বাচন ছিল একটি সাজানো প্রক্রিয়া এবং দেশজুড়ে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফয়জুল করীম বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হারানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়নি।
নির্বাচনব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বর্তমান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে আর্থিক খাত নিয়েও কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থ দেশের জনগণের সম্পদ, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফয়জুল করীম সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি নরসিংদীতে নারী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তার মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করলে সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক লোকমান হাকিম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মওলানা মুহাম্মাদ আবুল খায়ের।
অনুষ্ঠানে বরিশালের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য ও দোয়ার মধ্য দিয়ে ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গও উঠে আসে অনুষ্ঠানে। বক্তারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় জীবনে স্থিতিশীলতা, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফয়জুল করীমের বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে তার মন্তব্য বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য যে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে, তা স্পষ্ট। তবে তিনি তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।