রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মঞ্জুরুল হোসেন হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ নতুন চৌপথি বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল হোসেন ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তারাগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়।
গত বুধবার স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তামাক ক্ষেতে রক্ত এবং একটি জুতা পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা তা মঞ্জুরুলের বলে শনাক্ত করে পুলিশকে জানান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে রামপুরা মাজার সংলগ্ন একটি আলু উত্তোলন করা জমির কোণে মাটির নিচে চাপা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্ত্রী জান্নাতী বেগম বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, তিন দিন নিখোঁজ থাকার পরও পুলিশের তৎপরতা ছিল নগণ্য। জিডি করার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু হলে হয়ত এমন পরিস্থিতি ঘটত না। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এছাড়া পরিবারের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানেরও আহ্বান জানান তারা।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোনাব্বর হোসেন জানান, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা সড়ক থেকে সরে গেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
