
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির একটি সমন্বয় সভা কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের নির্বাচনী অফিসে এ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভার একপর্যায়ে নির্বাচন-পরবর্তী ফলাফল ও পরাজয়ের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছিল।
সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাজাহান আলী অভিযোগ উত্থাপন করলে দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। ক্রমে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে কিছু লোক কালীগঞ্জ থানার ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে এএসআই জাহিদ, কনস্টেবল পিকুল ও কনস্টেবল সেলিম আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। এতে সংঘর্ষ থেমে যায়। আহত বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, বিএনপির সমন্বয় সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে কিছু লোক থানায় ঢুকে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিরোধ ও নির্বাচনী বিশ্লেষণ সভা ঘিরে এমন সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর দলীয় ভেতরে মতপার্থক্য থাকলেও তা সমাধানে সংলাপ ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল। দলীয় অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বা সাংগঠনিক আলোচনায় সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।