
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ-এর মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের প্রতি কঠোরভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। মহাসচিব উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস করে সংলাপের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ড্রোন হামলা, গোলাগুলি ও অন্যান্য সহিংস ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে। বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ এবং পাকিস্তান সরকার উভয়েই সীমান্ত অস্থিরতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছে জাতিসংঘ।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ইতোমধ্যেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতির দ্রুত অবসান এবং স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংযম প্রদর্শন ও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।