
সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল, যিনি ‘সা রে গা মা পা’ অনুষ্ঠানের জন্য পরিচিত, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামলার বাদীকে মারধরের অভিযোগের মুখে পড়েছেন। নোবেলকে গত বছরের ১৩ আগস্ট এক তরুণী অনন্যা শবনম রোজ আনাননিয়া তাঁর সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রাখা, হেনস্থা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা এবং প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রাঙ্গণে অনন্যা সাংবাদিকদের সামনে বলেন, মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নোবেল তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেছেন। তিনি জানান, “সে আদালতে জামিন নেওয়ার সময় কান্নাকাটি করছিল, কিন্তু জামিন পাওয়ার পরই আমাকে মারধর শুরু করে। কেন মামলা করেছি—এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্যাতন করেছে।” এই সময় অনন্যা তার হাতে থাকা আঘাতের চিহ্নও সাংবাদিকদের সামনে দেখান।
অনন্যার বক্তব্য অনুযায়ী, নোবেলের আচরণ মিডিয়ার সামনে ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একেবারেই সহিংস ও নেশাগ্রস্ত। তিনি বলেন, “নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করলেও বাস্তবে তার আচরণ একেবারেই ভিন্ন। নেশাগ্রস্ত ও সহিংসতার সঙ্গে মারধরের ঘটনাও ঘটছে।”
অনন্যার মা বিবি কুলসুমও অভিযোগ করেন, জামিন পাওয়ার সময় নোবেল মিষ্টি কথায় আপসের আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু পরে আচরণ বদলে যায়। তিনি বলেন, “জামিনের পর মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের কাছে ভিডিওসহ নানা প্রমাণ আছে। খুব শিগগিরই আমরা আদালতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
বাদীপক্ষ আরও জানিয়েছেন, নোবেল হুমকি দিয়েছেন—“বাড়ির বাইরে বের হলে দেখে নেবেন”। ফলে তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট অনন্যা নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া কথা জানায় এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর নোবেলকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। সেইদিন উভয়পক্ষের মধ্যে আপসের আলোচনা হয়। বিচারক জানতে চাইলে বাদী আপসের বিষয়টি স্বীকার করেন। নোবেলের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় ২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, জামিনের ভিত্তিতে বিয়ে করার শর্তে আপসের মাধ্যমে জামিনে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে জামিনের পর বাদীর ওপর পুনরায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় তারা এখন জামিন বাতিলের আবেদন করবেন।
এই ঘটনায় এখনো নোবেলের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়া চলছে। বাদীপক্ষ আশা করছে, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।