
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সময়ের প্রেক্ষাপটে অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় সমৃদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি স্মরণ করেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের এবং বলেন, অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। বইমেলাকে তিনি কেবল বই কেনাবেচার আয়োজন নয়, বরং শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বইমেলাকে রাজধানীর নির্দিষ্ট পরিসর ছাড়িয়ে সারা দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রকাশক ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বইমেলার পরিধি বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও মানুষের পাঠাভ্যাস কতটা বাড়ছে—তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। নিয়মিত বই পড়ার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, পাঠাভ্যাস মানুষের বিশ্লেষণী ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে সহায়ক।
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অনুবাদ কার্যক্রম জোরদার হলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে। সমাপনী বক্তব্যে তিনি দল-মত নির্বিশেষে জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।