
বঙ্গোপসাগরে বহুজাতিক সামুদ্রিক মহড়া ‘মিলান ২০২৬’ সফলভাবে শেষ হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী এই মহড়ায় ৪২টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন এবং ২৯টি সামরিক উড়োজাহাজ অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি ১৮টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের নৌবাহিনীর জাহাজও এতে যুক্ত ছিল, যা সামুদ্রিক সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
‘ক্যামারাডারি, কো-অপারেশন, কোলাবোরেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্ত-এর ডেকে। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে। আয়োজক পক্ষ জানায়, এবারের আয়োজন পূর্বের তুলনায় বৃহত্তর পরিসরে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মূল লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।
মহড়ায় ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর সামুদ্রিক নজরদারি উড়োজাহাজ অংশ নেয়। শুরুতে ‘হারবার ফেজ’-এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সেমিনার এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
পরবর্তী ‘সি ফেজ’-এ উচ্চমাত্রার সামরিক অনুশীলন পরিচালিত হয়। এতে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধকৌশল, সামুদ্রিক বাধা অভিযান, যোগাযোগ মহড়া এবং ক্রস-ডেক ফ্লাইং অপারেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল। লাইভ ফায়ারিং অনুশীলনে কামান ও অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবধর্মী পরিস্থিতি অনুশীলন করা হয়। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নৌবাহিনী যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন মিশন সম্পন্ন করে।
ভারতের পক্ষ থেকে আইএনএস বিক্রান্ত ছাড়াও বিশাখাপত্তনম-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, নীলগিরি-শ্রেণির প্রজেক্ট ফ্রিগেট এবং ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল আইএনএস নিস্তারসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ এই মহড়ায় অংশ নেয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের বহুজাতিক মহড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।