
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীলনকশা চলছে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক নেতার জামিন প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, “বদি, আইভি সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জামিন পাচ্ছেন। তাদের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে এই গণশত্রুরা বের হচ্ছে, অন্যদিকে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের ঢোকানোর নীলনকশা চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যা তদন্তের নামে জুলাই আন্দোলনকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, যারা ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাদের এই পদক্ষেপ আত্মঘাতী হতে পারে। “এই অপশক্তি শেষ পর্যন্ত কাউকেই রেহাই দেবে না,”—বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সাম্প্রতিক নাটকীয় পরিবর্তনের পর সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, এতে গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’-এর চেতনা উপেক্ষিত হচ্ছে।
কায়েমের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি ফিরে আসছে, যা পরিবর্তনকামী জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর ভাষায়, “গণভোট ও জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কায়দায় দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধালাভের সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তন পরিবর্তনকামী মানুষের রায়কে উপেক্ষা করার নামান্তর।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জাতি আবারও দাসত্বের দিকে ধাবিত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘সময়ের সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের ‘শুভ বুদ্ধির উদয়’ কামনা করেন। অন্যথায় ইতিহাসের কাঠগড়ায় কেউই দায় এড়াতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জামিন, তদন্ত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির এই আন্তঃসম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
সার্বিকভাবে, ডাকসু ভিপির এই বিবৃতি চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন নজরদারিতে থাকবে।