
ইসলামে নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাত—সব ইবাদতেই নারী-পুরুষের সমান দায়িত্ব ও সুযোগ রয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে নারীরাও রোজা পালন করবেন, তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন এবং কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইতিকাফসহ অন্যান্য আমলে অংশ নেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে বিশ্বাসী নারী বা পুরুষ সৎকর্ম করে, অবশ্যই তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা: ১২৪)
অনেক সময় নারীদের মনে প্রশ্ন জাগে—কোন কাজ করলে রোজা ভঙ্গ হবে, আর কোন কাজ করলে রোজা অটুট থাকবে? নিচে শরিয়তের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো।
১. সন্তানকে দুধ পান করানো
মায়েরা রোজা অবস্থায় শিশুকে দুধ পান করালে রোজা ভঙ্গ হয় না। এমনকি দুধ নিঃসরণ হলেও রোজা বা অজুর কোনো ক্ষতি হয় না।
২. রক্তপাত বা ক্ষতস্থান থেকে তরল বের হওয়া
শরীরের কোথাও কাটাছেঁড়া হলে রক্ত বের হলে রোজা ভাঙে না। তবে অজু ভেঙে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে নতুন করে অজু করতে হবে।
৩. অনিচ্ছাকৃত বমি
নিজে থেকে বমি হলে রোজা ভাঙে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে ফিকহ অনুযায়ী রোজা নষ্ট হতে পারে।
৪. রান্নার স্বাদ পরীক্ষা
রোজা অবস্থায় প্রয়োজন হলে তরকারি বা খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করা যাবে। জিহ্বায় নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিতে হবে। গিলে ফেলা যাবে না। প্রয়োজনে কুলি করা উত্তম।
৫. তেল, সুরমা বা কসমেটিকস ব্যবহার
রোজা অবস্থায় তেল, সুরমা, সুগন্ধি, ক্রিম বা পাউডার ব্যবহার করলে রোজা ভাঙে না। তবে শালীনতা ও পর্দা বজায় রাখা জরুরি।
৬. শিশুর জন্য খাবার চিবিয়ে দেওয়া
কোনো ছোট শিশুকে প্রয়োজনে খাবার চিবিয়ে দিলে রোজা ভাঙে না, যদি তা গিলে না ফেলা হয়।
১. মাসিক (হায়েজ) ও প্রসবোত্তর স্রাব (নিফাস)
মাসিক বা প্রসব–পরবর্তী রক্তপাত শুরু হলে রোজা রাখা যাবে না। পরে ওই রোজা কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা দিতে হবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রজঃবতী নারীদের থেকে দূরে থাকো…’ (সুরা বাকারা: ২২২)
যদি দিনের বেলায় মাসিক বন্ধ হয়, তাহলে দিনটির বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে সম্মানের কারণে; তবে এটি পূর্ণ রোজা হিসেবে গণ্য হবে না—পরে কাজা করতে হবে।
২. গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে
যদি বিজ্ঞ ও দ্বীনদার চিকিৎসক গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় রোজা রাখতে নিষেধ করেন, তাহলে সেই রোজা পরে কাজা আদায় করা যাবে।
তিন দিনের কম বা দশ দিনের বেশি রক্তপাত হলে, অথবা নিয়মিত মাসিকের সময় শেষ হওয়ার পর আবার রক্তক্ষরণ হলে সেটিকে ইস্তিহাজা বলা হয়। এ অবস্থায় রোজা রাখা ও নামাজ পড়া বৈধ। অজু–গোসল করে নিয়মমতো ইবাদত করা যাবে।
একইভাবে সন্তান জন্মের ৪০ দিনের পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে তা ইস্তিহাজার অন্তর্ভুক্ত। তখন রোজা রাখা ও নামাজ আদায় করতে হবে।
রোজা ভঙ্গ হয় মূলত—
ইচ্ছাকৃত পানাহার
স্বামী-স্ত্রীর রতিক্রিয়া
মাসিক বা প্রসবোত্তর স্রাব
এ ছাড়া অন্যান্য অনেক বিষয়ে মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন, যা শরিয়তসম্মত নয়।
রমজান মাস ইবাদতের মাস। সচেতনতা ও সঠিক জ্ঞান ছাড়া অনেকেই অপ্রয়োজনে রোজা ছেড়ে দেন বা অকারণে ভয় পান। অথচ শরিয়ত নারীদের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে—কোথায় ছাড়, কোথায় দায়িত্ব।
তাই রোজা ভাঙবে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ হলে আলেম বা নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সঠিক জ্ঞানই পারে রমজানের ইবাদতকে পরিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে।