
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। আদালত নতুন করে আগামী ১১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন। এর আগে এ মামলায় একাধিকবার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ পিছিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (Criminal Investigation Department (CID)) এদিন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। ফলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শরিফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা প্রচেষ্টা মামলা দায়ের করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলাটির তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর বাদীপক্ষ নারাজি দেওয়ায় আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে ন্যস্ত হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার অগ্রগতি আবার বিলম্বিত হলো।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর অপরাধের মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে তা মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হলে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এখন ১১ মার্চের দিকে তাকিয়ে আছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা। সেদিন সিআইডি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কি না, সেটিই পরবর্তী অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।