
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরাও শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা পাঁচটি মামলায় আইভীকে জামিন দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে পরবর্তীতে আপিল বিভাগে ওই জামিন স্থগিত হয়ে যায়। পরে তাঁকে পুনরায় পাঁচ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম হত্যার অভিযোগ। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল। তাঁকে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনা-সহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি হিসেবে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের করা হয়।
গত বছরের মে মাসে মিনারুল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন নিম্ন আদালত। এরপর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সর্বশেষ আদেশে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তাঁকে জামিন দেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন মানেই মামলার অবসান নয়; বরং এটি বিচারাধীন অবস্থায় শর্তসাপেক্ষে মুক্ত থাকার সুযোগ। মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আইভী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার সিটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
হাইকোর্টের আদেশের ফলে আপাতত আইনি স্বস্তি পেলেও মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারে।
সার্বিকভাবে, চারটি হত্যা মামলাসহ পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে মামলাগুলোর পরবর্তী আইনি অগ্রগতির দিকে।