
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া লিগে ইফতারের সময় রোজাদার খেলোয়াড়দের জন্য স্বল্প বিরতির ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে ফ্রান্সের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা লিগ ওয়ান-এ ধর্মীয় কারণে খেলা থামানোর অনুমতি নেই। এই প্রেক্ষাপটে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন অ্যান্থনি লোপেজ।
গত রোববার এফসি নঁতে ও লে হাভরে এসি-র মধ্যকার ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে সূর্যাস্তের সময় হয়ে গেলে লোপেজ হঠাৎ বাম হ্যামস্ট্রিং চেপে ধরে মাঠে বসে পড়েন। তিনি অস্বস্তির ইঙ্গিত দিলে চিকিৎসক দল মাঠে প্রবেশ করে এবং খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
এই সংক্ষিপ্ত বিরতির সুযোগে নঁতের কয়েকজন মুসলিম খেলোয়াড় টাচলাইনে গিয়ে পানি ও খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন। কিছুক্ষণ পর লোপেজ উঠে দাঁড়িয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে খেলায় অংশ নেন। তাঁর মধ্যে দৃশ্যমান কোনো ইনজুরির লক্ষণ দেখা যায়নি।
বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী ধর্মীয় কারণে ম্যাচে বিরতি দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতারের জন্য খেলা থামানো যায় না। এমন পরিস্থিতিতে সতীর্থদের রোজা ভাঙার সুযোগ করে দিতে লোপেজ এই কৌশল নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোপেজের প্রশংসা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে দলীয় সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে ক্লাব বা লিগ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফরাসি লিগের নীতির সঙ্গে অন্য দেশের লিগগুলোর পার্থক্য রয়েছে। যেমন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ-এ ২০২১ সাল থেকে সূর্যাস্তের সময় রোজাদার খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার সুযোগ দিতে রেফারিরা স্বল্প সময়ের বিরতি দেন। গোলকিক, থ্রো-ইন বা খেলার স্বাভাবিক বিরতির সময় খেলোয়াড়রা টাচলাইনে গিয়ে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে পারেন।
রমজান মাসে ইউরোপের বিভিন্ন লিগে মুসলিম খেলোয়াড়দের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে অনেক প্রতিযোগিতায় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতার কঠোর নীতির কারণে ক্রীড়াক্ষেত্রেও ধর্মীয় বিবেচনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, লোপেজের এই উদ্যোগ কেবল একটি মুহূর্তের ঘটনা নয়; বরং এটি দলীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতার উদাহরণ। ফুটবল মাঠে ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতীয়তার খেলোয়াড়রা একসঙ্গে খেলেন। সেখানে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতাই দলকে শক্তিশালী করে।
তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ইনজুরির ভান করা খেলাধুলার নৈতিকতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও ঘটনাটি ছিল সংক্ষিপ্ত এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।
সব মিলিয়ে, লিগ ওয়ানে ইফতারের আনুষ্ঠানিক বিরতি না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অ্যান্থনি লোপেজ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। রমজানের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্মানের একটি আলোচিত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।