
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানি শেষে বিচারপতিরা জামিনের আদেশ দেন। তবে জামিনের শর্তাবলি এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আদালত এ আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বদিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় র্যাব জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে হেফাজতে নেয় বলে জানানো হয়েছিল।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বদি ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগও ওঠে। বিশেষ করে ‘ইয়াবা গডফাদার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর তাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বদি বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়ন নিয়ে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বদি। উখিয়া-টেকনাফ এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনটি সীমান্তবর্তী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
ইয়াবা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে পরবর্তী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয় এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিষয়টি সে সময় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মামলাটি ঘিরেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। মামলার এজাহার ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত আছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিন পাওয়া মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়। আদালত প্রাথমিক শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জামিনের সিদ্ধান্ত দেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আসামিকে প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতে হাজিরা দিতে হয় এবং শর্ত ভঙ্গ করলে জামিন বাতিল হতে পারে।
বদির জামিনের ঘটনায় কক্সবাজারসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার সমর্থকরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ও অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার অপেক্ষা রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি অনুযায়ী মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
সার্বিকভাবে, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির জামিনের বিষয়টি চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার আইনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।