
২০০৯ সালের পিলখানার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাস–এ অবস্থিত আর্মি মাল্টিপারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অবদান। সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে। তার ভাষায়, পিলখানার বর্বরোচিত ঘটনা ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি অপপ্রয়াস। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘটনার পরিক্রমায় জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর বিভিন্ন দুর্বলতা সামনে আসে, যা সময়োপযোগী সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি রাখে।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই দিনটি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত আজও বহমান।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে তিনি গভীর আবেগ অনুভব করেছেন। তিনি জানান, দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করে পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও বিচারপ্রাপ্তির প্রত্যাশার বিষয়টি অনুধাবন করেছেন।
পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাহিনীটির সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, ১৯৭৮ সালে বাহিনীটি সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠিত হয়ে ব্যাটালিয়ন পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়, যা এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার এবং শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।