
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ সম্প্রতি সব রাজনৈতিক দল থেকে কর্মী সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংগঠনটির মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ফেসবুকের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চ প্রতিটি দলের কাছ থেকে একজন করে ‘হাদির যোগ্য উত্তরসূরি’ নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পোস্টে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের পছন্দের উত্তরসূরি সাজেস্ট করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় দলগুলো থেকে দুজন করে কর্মী নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না।
সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চ একটি অভ্যুত্থান অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম। এটি সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, এবং ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করছে। সংস্থার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা এবং স্বাধীনচেতা নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
ফাতেমা তাসনিম জুমার এই ঘোষণার মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে, ইনকিলাব মঞ্চ রাজনৈতিক দলনিরপেক্ষ হতে চায় এবং সমস্ত দল থেকে যোগ্য ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে সংস্থার কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সংগঠিত ও সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠবে।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি মূলত সংস্কৃতি ও শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ সঞ্চারের দিকে লক্ষ্য রাখে। সব দল থেকে কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্তও এই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলনিরপেক্ষতা ও সমবায়মূলক নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক হবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, হাদির যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাধীনচেতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকাশ সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক দলগুলো থেকে কর্মী নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতের নেতৃত্বে যোগ্য ও নৈতিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হবে। ইনকিলাব মঞ্চের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলনিরপেক্ষতা, সহযোগিতা ও নেতৃত্বের বিকাশের দিকটি প্রাধান্য দিচ্ছে।
ফাতেমা তাসনিম জুমার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের পছন্দের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংহতি বৃদ্ধি পাবে এবং সংগঠনটি একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিকশিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ আরও প্রসারিত হবে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করার লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করবে।
সার্বিকভাবে, ইনকিলাব মঞ্চের সব দল থেকে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা একটি প্রগতিশীল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ, দলনিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং একটি সুসংহত শিক্ষার্থী সম্প্রদায় গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।