
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ‘মেসার্স কে কে ব্রিক্সকে’ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার উত্তরকেবলনগর খান কান্দি এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন শরীয়তপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫(২) ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর একই আইনের ১৫(১)(খ) ধারায় ভ্রাম্যমান আদালত ইটভাটাটিকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং তা আদায় করা হয়।
অভিযানের সময় আদালতে প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর শরীয়তপুরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান। অভিযান চলাকালে জেলা পুলিশ শরীয়তপুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাসেল নোমান কালের কন্ঠকে বলেন, “পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনগত শর্ত না মেনে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
জাজিরা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অনেক সময় ভাটা মালিকরা পরিবেশগত ও আইনগত শর্ত পূরণ না করেও ব্যবসা চালিয়ে যান। এতে সেখানকার মাটির ক্ষতি হয়, ধুলার কারণে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায় এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়ে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এই যৌথ অভিযান এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযানকালে দেখা গেছে, উত্তরকেবলনগর খান কান্দি এলাকায় অবৈধভাবে চলমান ইটভাটার যন্ত্রপাতি এবং ইট প্রস্তুতের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা আদায় সঙ্গে সঙ্গে আইন লঙ্ঘনের দায়িত্বরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, পরবর্তীতে আবারও যদি কেউ পরিবেশগত ছাড়পত্র বা আইনগত শর্ত না মেনে ইটভাটা পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়মিতভাবে অবৈধ ইটভাটার ওপর নজরদারি চালানো হবে। স্থানীয়দেরও বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রম দেখলে তারা প্রশাসনকে জানাতে পারেন। প্রশাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলি স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থ এবং পরিবেশের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় জেলার প্রশাসন ও ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জাজিরা সহ শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে, যাতে পরিবেশ রক্ষা করা যায় এবং আইন অনুযায়ী সকল ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংক্ষেপে, জাজিরার অবৈধ ইটভাটায় জরিমানা আর অভিযান আইন প্রয়োগে জেলা প্রশাসনের দৃঢ় মনোভাবের প্রতিফলন। এ ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় জনসাধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।