
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। এতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিতর্ক এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ ও বক্তব্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় শপথের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং গোপন তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন।”
তিনি আরো বলেন, এই ধরনের বক্তব্য দেশের স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গে একেবারেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির এমন কর্মকাণ্ড জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং সংবিধান, রাষ্ট্রীয় শপথ ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। “একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বক্তব্যে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে,” মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংযত ও পরিমিত বক্তব্য প্রদান করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইন মেনে চলা অপরিহার্য।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সতর্ক এবং সংবিধানভিত্তিক বক্তব্য প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার প্রতি যথাযথ মনোযোগ এবং সতর্কতা অবলম্বন করা না হলে দেশের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি মনে করান, রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ শীর্ষ পদে থাকলেও তার দায়িত্ব শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদানের নয়; বরং দেশের ভাবমর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপরও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির এই ধরনের কার্যক্রম দেশের সাংবিধানিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করেছে এবং দেশের নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দল মনে করছে, রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তির বক্তব্য সর্বদা সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় শপথের সীমার মধ্যে থাকা উচিত, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং নাগরিকদের আস্থা অবিচল থাকে।
এই বিবৃতিতে জামায়াত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা রক্ষায় রাষ্ট্রপতিকে আরো দায়িত্বশীল এবং সংযতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান করা না হলে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমনে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেতে পারে।
সংক্ষেপে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে গোপনীয় তথ্য প্রকাশের বিষয়টি জামায়াতের তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দল মনে করছে, রাষ্ট্রপতির এমন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় শপথ ভঙ্গ এবং দেশের স্থিতিশীলতা ও ভাবমর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থতার প্রতীক।