
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নিয়মিত আন্তঃনগর ও অন্যান্য ট্রেনের পাশাপাশি এবার পাঁচ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করা।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় ঈদকেন্দ্রিক ট্রেন পরিচালনা ও যাত্রীসেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানেই বিশেষ ট্রেন চালু ও টিকিট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এগুলো হলো—
চট্টগ্রাম–চাঁদপুর–চট্টগ্রাম রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল
ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ–ঢাকা রুটে তিস্তা ঈদ স্পেশাল
ভৈরববাজার–কিশোরগঞ্জ–ভৈরববাজার রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল
ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল
জয়দেবপুর–পার্বতীপুর–জয়দেবপুর রুটে পার্বতীপুর ঈদ স্পেশাল
ঈদের পর ফেরত যাত্রার সুবিধার্থে এসব ট্রেনের সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় নয়, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সময়ও যাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন।
ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ১৩ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যাত্রার টিকিট ধাপে ধাপে বিক্রি করা হবে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে এবং চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। ফলে যাত্রীরা আগেভাগেই যাওয়া ও ফেরার পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। এতে স্টেশনে ভিড় কমবে এবং টিকিট কেনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। নির্ধারিত সময় মেনে অনলাইনে প্রবেশ করে যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঈদে ট্রেনযাত্রা বরাবরই চাপযুক্ত হয়ে থাকে। তাই সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিশেষ ট্রেন সংযোজনের ফলে যাত্রীচাপ কিছুটা কমবে এবং বাড়ি ফেরা হবে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক।
সব মিলিয়ে, আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রেলপথে যাত্রী পরিবহনে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে যাত্রীরা সহজেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।