
রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের কবর জিয়ারত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডা. শফিকুর রহমান এবং তার দল বনানী কবরস্থানে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও।
এই কবর জিয়ারত অনুষ্ঠানের আগে সকালেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া করেন।
শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহত সেনাদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা সদস্যরা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক ট্রাজেডি হিসেবে চিহ্নিত।
২০২৪ সালের পর থেকে এই দিনটি সরকারিভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রতি বছর এই দিনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বনানীর কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া করেন। জামায়াতের পক্ষ থেকেও শহীদদের স্মরণে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।
জামায়াত আমীরের এই কবর জিয়ারত কেবল একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ড নয়, বরং এটি শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম এবং সামরিক বাহিনীর ত্যাগের স্বীকৃতিও বটে। দলটির নেতৃবৃন্দ ও সমর্থকরা এই ধরনের অনুষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে পালনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের গৌরবময় অংশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন।
জীবিত ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে পারেন। কবর জিয়ারতের সময় প্রার্থনা, তিলেক, এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।
বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত অনুষ্ঠান দেশের জন্য শিক্ষা ও প্রতিফলনও বহন করে। এটি প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক ও সামাজিক পার্থক্য থাকলেও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
এভাবে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং তাঁর দলের কবর জিয়ারত অনুষ্ঠান দেশের সামরিক ইতিহাসে শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান রাখে এবং সমাজে সামরিক ও রাজনৈতিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটায়।