
সুনামগঞ্জ-১ আসনের বিভিন্ন নদীর ইজারাকৃত পয়েন্টে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল-এর নির্দেশে সচেতনতামূলক মাইকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আবুয়া নদী থেকে শুরু করে চলতি ও যাদুকাটা নদীর বিভিন্ন ঘাট এলাকায় এই প্রচারণা চালানো হয়।
এদিন ইজারাদার, তাদের প্রতিনিধিসহ ব্যবসায়ী, নৌকার মালিক-চালক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোলের বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই এমপি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নদীপথে মাইকিং করার নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সুধীজনের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসছিল যে, বিআইডব্লিউটিএর নামে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিক এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মাইকিং প্রচারণায় প্রতি ঘনফুট বালুর ক্ষেত্রে ২৫ পয়সা এবং পাথরের ক্ষেত্রে ৩৪ দশমিক ৫০ পয়সা সরকারি টোলের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না নেওয়ার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ইজারাকৃত ঘাটে টোল চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত হার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।
প্রচারণায় আরও জানানো হয়, যদি কোনো ইজারাদার বা তাদের প্রতিনিধি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগীরা সরাসরি আইনগত সহায়তা নিতে পারবেন বলে জানানো হয়।
এ উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে বালু ও পাথর পরিবহনের সময় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ ছিল। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নদীপথে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এমন সচেতনতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এ বিষয়ে বলেন, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সুধীজনের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এবং অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করতে সচেতনতামূলক মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি ও জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে নদীপথে টোল আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোষিত নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হলে নদীপথে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনিয়ম বন্ধ হবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।