
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের চাত্রা জেলায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিমানে থাকা সাতজনের সবাই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন পাইলট ও পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাচি থেকে দিল্লিগামী এই চিকিৎসা বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনার খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
চাত্রা জেলার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রাচি বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের প্রায় ২০ মিনিট পর হঠাৎ করেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে চাত্রার সিমারিয়া এলাকার বারিয়াতু পঞ্চায়েতের একটি ঘন বনাঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
বিমানটি পরিচালনা করছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি চিকিৎসাসেবার বিশেষ ফ্লাইট ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল বিচক্রাফট সি-নব্বই (Beechcraft C90) মডেলের, যার নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এজেভি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবরণে বলা হয়, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে বিমানটি কলকাতার সঙ্গে শেষবারের মতো যোগাযোগ করে। এরপর বারাণসী থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থানকালে রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে এটি সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনায় নিহত সাতজন হলেন— ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী এবং ধুরু কুমার। নিহতদের মধ্যে সঞ্জয় কুমার ছিলেন গুরুতর দগ্ধ রোগী, যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল।
রাচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অনন্ত সিনহা জানান, ৪১ বছর বয়সী সঞ্জয় কুমার ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সড়কপথে তাকে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দিল্লিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজেও কিছুটা বেগ পেতে হয়। রাচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার বলেন, খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তদন্তকারী দল বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে তা পরীক্ষা করবে। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসও এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৯ সালে নন-শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়। সংস্থাটির বহরে বর্তমানে ছয়টি বিমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।