
চাঁদপুর জেলার মতলব এলাকায় ধনাগোদা নদীতে একটি বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশু, স্বামী-স্ত্রীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নদী পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব খেয়াঘাট এলাকায় ধনাগোদা নদী পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী নৌকাটিতে একটি দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রলার সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায় এবং নৌকায় থাকা যাত্রীরা পানিতে ছিটকে পড়েন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মতলব দক্ষিণ উপজেলার চরমুকুন্দী গ্রামের রঞ্জন আলী সওদাগরের ছেলে নুরে আলম (৯), মেয়ে রাহেলা আক্তার লতা (১৯) এবং তার স্বামী সৌরভ (২১)। এছাড়া নৌকার মাঝিসহ আরও একজন আহত হন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে ধনাগোদা নদীর উত্তর পাড় থেকে নৌকায় করে মতলব বাজারের দিকে আসছিলেন যাত্রীরা। মাঝনদীতে পৌঁছালে কোনো ধরনের আলো ছাড়াই চলাচলরত একটি বালুবাহী ট্রলার নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে নৌকাটি মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর নদীতে থাকা অন্যান্য নৌকার মাঝিরা দ্রুত এগিয়ে এসে পানিতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় আহতদের।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক জানান, আহত রাহেলা আক্তার লতার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রানা সাহা বলেন, আহত সৌরভ ও রাহেলা আক্তার লতার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তারা নৌকাযোগে মতলব উত্তর উপজেলা থেকে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আসছিলেন। খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছানোর আগ মুহূর্তে বালুবাহী ট্রলারের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যায়। এতে নৌকার মাঝিসহ চারজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, রাতের বেলায় নদীতে কোনো ধরনের লাইট বা সতর্কতা ছাড়াই বালুবাহী ট্রলারগুলো দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এ ধরনের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান জানান, নৌকাডুবির বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। ফলে ঘটনাস্থলে তাদের কোনো উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, নদীপথে চলাচলকারী ট্রলারগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।