
প্রতি বিশ্বকাপ এলেই ভিন্নধর্মী ও আক্রমণাত্মক বিজ্ঞাপন তৈরির প্রবণতা দেখা যায় ভারতের সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে। প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখানো বা ব্যঙ্গ করার অভিযোগ নতুন নয়। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে তৈরি করা একটি বিজ্ঞাপনই শেষ পর্যন্ত ভারতের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্টার স্পোর্টস একটি প্রোমো বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যঙ্গ করে উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞাপনটিতে একটি ক্যাফে-ভিত্তিক দৃশ্য দেখানো হয়। সেখানে একজন ভারতীয় সমর্থক ‘কাপকেক’ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার এক সমর্থককে ট্রল করতে দেখা যায়। ওই সময় ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রোটিয়াদের পরাজয়ের কথা টেনে আনা হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা তৈরি হয়।
এই বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের একটি অংশ বিষয়টিকে ক্রীড়াসুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে মনে করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তোলেন, প্রতিপক্ষ দলকে হেয় করে এমন প্রচার বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মর্যাদার সঙ্গে যায় না। সমালোচনার মুখে পড়ে স্টার স্পোর্টস বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়।
তবে বিতর্ক আরও তীব্র হয় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের পর। ম্যাচে বাজেভাবে হেরে যায় স্বাগতিক ভারত। পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পুরোনো বিজ্ঞাপন নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। এবার অবশ্য ব্যঙ্গের তীর ঘুরে আসে ভারতের দিকেই। অনেকেই বিজ্ঞাপনটি টেনে এনে ভারতকে নিয়েই ট্রল করতে শুরু করেন।
পরাজয়ের পর স্টার স্পোর্টস তাদের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ওই বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়। যদিও এটি ম্যাচের আগে না পরে সরানো হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। তবে ম্যাচের ফলাফলের পর বিজ্ঞাপনটি ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম নেয়।
এই হারের মাধ্যমে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডও থেমে গেছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের টানা ১৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যে ধারাবাহিকতা ছিল, সেটির এখানেই ইতি ঘটে। একই সঙ্গে বড় ব্যবধানে হারের কারণে ভারতের নেট রানরেট নেমে গেছে -৩.৮০০-তে।
নেট রানরেটের এই অবনতির ফলে সেমিফাইনালে ওঠার পথও এখন ভারতের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে বড় ব্যবধানে জয় ছাড়া বিকল্প খুব একটা নেই। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই বিজ্ঞাপন বিতর্কও ভারতের বিশ্বকাপ যাত্রাকে আরও চাপে ফেলেছে।
বিশ্বকাপের উত্তেজনা বাড়াতে তৈরি করা একটি বিজ্ঞাপন শেষ পর্যন্ত উল্টো প্রভাব ফেলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যঙ্গ করার সেই প্রচারই এখন ভারতের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।