
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে। মন্ত্রী বলেন, দুই কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ এবং তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নদী শাসন ও খননের কাজ একযোগে বাস্তবায়িত হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে রংপুর বিভাগের বাজেট ব্যবহারে কোনো বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিল্প কলকারখানা নির্মাণের মাধ্যমে রংপুরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘শুধু ৫ আগস্ট নয়, যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মামলা করতে পারবে।’’ তিনি এমন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আইনি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এর আগে, মন্ত্রী রংপুর সফরের প্রথম দিন নিজ জেলার লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।
মন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যক্রমের জন্য সরকার ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করেছে। সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে নদী শাসন ও খনন, বাঁধ নির্মাণ, পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি শুধু নদী নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবিকা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, প্রকৌশলী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করে কাজ করবে যাতে প্রকল্পটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা এবং রংপুর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সকল আইনি ও পরিবেশগত নীতি মেনে চলা হবে। কোনো অনিয়ম বা দেরি হলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বাস দেন যে, প্রকল্পটি সকলের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত হবে।
সব মিলিয়ে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, রংপুরের বাজেট ন্যায়পরায়ণভাবে ব্যবহার এবং শিল্প কলকারখানা উন্নয়নের পরিকল্পনা এই সফরের মূল বার্তা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। মন্ত্রী স্থানীয় জনগণের কল্যাণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।