
বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার আমগাছগুলোতে ফুটে উঠেছে থোকা থোকা মুকুল। হলদে-সোনালি এই মুকুলের মিষ্টি সুবাসে ভরে উঠেছে চারপাশের বাতাস। গ্রামীণ পথে চলতে গিয়ে অনেক পথিক থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন আমের মুকুলের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য যেন অজান্তেই আন্দোলিত করছে মানুষের মন।
পলাশবাড়ী উপজেলার বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে লাগানো গাছ থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ আমবাগান—সবখানেই দেখা মিলছে মুকুলে ভরা আমগাছের। কোথাও গাছের ডালে ঝুলে আছে থোকা থোকা মুকুল, কোথাও আবার ছাদবাগানের ড্রামে লাগানো ছোট গাছেও দুলছে মুকুলের শোভা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়া মিষ্টি সুবাসে প্রকৃতি যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
আমের মুকুল ফুটতেই শুরু হয়েছে মৌমাছি ও প্রজাপতির আনাগোনা। মুকুলের মধুর সন্ধানে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে এক গাছ থেকে আরেক গাছে। এতে করে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, পরাগায়নের মাধ্যমে ফলনের সম্ভাবনাও বাড়ছে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
পলাশবাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুধু কৃষকরাই নয়, অন্যান্য পেশার মানুষও এখন আমবাগান গড়ার দিকে ঝুঁকছেন। উপজেলার নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজশিক্ষক মমিনুল ইসলাম জানান, তার নিজস্ব আমবাগানের ছোট-বড় সব গাছে ভালোভাবে মুকুল এসেছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
উপজেলার নুনিয়াগাড়ী, আন্দুয়া, মহেশপুর গোয়ালপাড়া, নূরপুর, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে দেশীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের আমগাছে মুকুলের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, বারি-ফোর, গৌরমতি, ব্যানানা, বারোমাসি কাটিমনসহ নানা জাতের আমগাছে মুকুল আসায় কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ ও আশাবাদ বেড়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ২৩৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হচ্ছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শর্মিলা শারমিন জানান, মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল ধরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়েও নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে এ বছর পলাশবাড়ীতে আমের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে কৃষকদের আর্থিক লাভের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।