
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন সংসদ সদস্যের নাম জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্বাধীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে পরিচিত। দলীয় সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও ডেপুটি স্পিকার পদে আন্দালিব রহমান পার্থ বর্তমানে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দালিব রহমান পার্থের সংসদীয় অভিজ্ঞতা, আইনি ব্যাকগ্রাউন্ড এবং তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে এই পদের জন্য একটি শক্ত অবস্থানে রেখেছে। বিশেষ করে জোট রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ডেপুটি স্পিকার পদে তাকে বেছে নেওয়া হতে পারে—এমন ধারণা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় থাকা দ্বিতীয় নামটি হলো লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি দলীয় রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য পরিচিত। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সংসদীয় শালীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নিজানের ভাবমূর্তি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়, যা ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
এই তালিকায় তৃতীয় যে নামটি রয়েছে, তিনি নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনিও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা এবং দলীয় অবস্থান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রেখেছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
সূত্রগুলো জানায়, এই তিনজনের নামই মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য তালিকায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় তারা কেউ স্থান পাননি। বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও অভিজ্ঞতার কারণে আন্দালিব রহমান পার্থ এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মন্ত্রিসভায় না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমানে সেই আলোচনাই নতুন মাত্রা পেয়েছে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া এই নেতাদের মধ্য থেকেই সংসদের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এতে একদিকে যেমন সংসদের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে জোট রাজনীতির হিসাবও মেলানো সহজ হবে।
বিশ্বস্ত সূত্রগুলোর দাবি, ডেপুটি স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নয়; সংসদ পরিচালনায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনা, সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায়।
এ কারণে এই পদে যিনি নির্বাচিত হবেন, তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, নিরপেক্ষতা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এই বিবেচনায় আলোচনায় থাকা তিনজনকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই তিনজনের মধ্য থেকে কে দায়িত্ব পান, সেদিকেই এখন সবার নজর।