
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের ভয়াবহ বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ফ্ল্যাটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘরের ভেতরে অবস্থান করা নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আগুনের লেলিহান শিখার কবলে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস-এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। দগ্ধ অবস্থায় থাকা সবাইকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে বিস্ফোরণের ফলে ফ্ল্যাটটির রান্নাঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত ৯ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, দগ্ধদের সবার অবস্থাই গুরুতর। তাদের অনেকের শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগীদের বেশিরভাগের শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা জটিল হয়ে উঠছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
বার্ন ইউনিটের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া একজনের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ, আরেকজনের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বাকি আহতদের শরীরের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আগুনে ঝলসে গেছে। এই পরিসংখ্যান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে তুলে ধরে।
এ ধরনের গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণত জমে থাকা গ্যাস দীর্ঘ সময় অজান্তে ঘরের ভেতরে থেকে গেলে সামান্য আগুন বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রান্নাঘরে গ্যাস ব্যবহারকালে যথাযথ সতর্কতা না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ঘটনার পর ভবনটির অন্য বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে কীভাবে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল এবং বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ কী।
এই দুর্ঘটনা আবারও নগর জীবনে গ্যাস নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আবাসিক ভবনগুলোতে নিয়মিত গ্যাস লাইন ও চুলার নিরাপত্তা পরীক্ষা কতটা জরুরি, তা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।