
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামে সম্প্রতি এক কৃষকের সরিষা ক্ষেত কেটে নেওয়ার ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মোমিন ইসলাম নামের কৃষক তার জমিতে সরিষা চাষ করছিলেন। তার চাচাত ভগ্নিপতি মেহেদী মাছুম এবং জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়ার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনকে ভাড়া করে জমিতে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আধাপাকা সরিষা কেটে নেয়।
ভুক্তভোগী কৃষক মোমিন ইসলাম জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক জমি নিয়ে চাচাদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। বড় চাচা আফছার আলীর মেয়ের জামাই মেহেদী মাছুম এই জমি নিয়ে বিবাদে জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিন, তারা ভাড়া করা দলবলসহ মাঠে প্রবেশ করে সরিষা কেটে নিতে থাকে। মোমিন ইসলাম বাধা দিতে গেলে তাদের পক্ষ থেকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় এবং দ্রুত জমি ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত তিনি ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ আসে, তবে ততক্ষণে সরিষা ক্ষেত কেটে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ীর সামনে থেকে কেটে আনা সরিষা উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত মেহেদী মাছুম দাবি করেন, এই জমি তার শশুর আফছার আলীর, এবং মোমিন ইসলাম জোরপূর্বক চাষাবাদ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য জমি ফেরত চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল পুলিশ ডাকার পর সেখানে যান যাতে দুই পক্ষকে থানায় নিয়ে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করা যায়।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান বলেন, সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তদন্ত শেষে ফিতা মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
কালাই থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের বাড়ীর সামনে থেকে কেটে আনা সরিষা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনায় পারিবারিক জমি বিরোধ, রাজনৈতিক সংযোগ এবং স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের সদস্যদের জড়িত থাকার কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোমিন ইসলাম আশা প্রকাশ করেছেন, আইন এবং প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।