
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঞ্জুরুল ইসলাম দেশের ক্রিকেটের কোনো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না এবং এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জাহানারা আলম গত বছরের নভেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। জাহানারা লিখিতভাবে একই অভিযোগ তদন্ত কমিটিকে উপস্থাপন করেন।
বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগে অসদাচরণের প্রমাণ রয়েছে। কমিটি উল্লেখ করেছে, মঞ্জুরুলের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
এই সুপারিশের ভিত্তিতে আজ বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভায় মঞ্জুরুলকে দেশের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে মঞ্জুরুল ইসলাম এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) চাকরি করলেও তিনি গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই।
বিসিবির শাস্তি ঘোষণার পর মঞ্জুরুলের প্রতিক্রিয়া জানতে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিসিবির এই সিদ্ধান্ত দেশের নারী ক্রিকেট ও পেশাদারিত্বের মান রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা ক্রিকেটের মান ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তাদের মানসম্পন্ন আচরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
জাহানারা আলম বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের সুপরিচিত অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে নারী ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক অর্জন উল্লেখযোগ্য। এই ঘটনা সামাজিক ও ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিবি জানায়, ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে তারা আরও কঠোর নীতি ও প্রশিক্ষণ প্রণয়ন করবে। একই সঙ্গে নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।
মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ পরবর্তীতে দেশের ক্রিকেট প্রশাসন ও নারী খেলোয়াড়দের জন্য এক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিসিবি শাস্তি কার্যকর করার মাধ্যমে সকলের জন্য একটি পেশাদার, নিরাপদ এবং সমান সুযোগসুবিধা সম্পন্ন ক্রিকেট পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।