
রোজা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ফরজ ইবাদত। ইসলাম এমন কোনো বিধান দেয়নি, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“আল্লাহ কারো ওপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত।”
(সুরা বাকারা: ২৮৬)
রোজা পালনের সময় অনেক বিষয় নিয়ে রোজাদারদের মনে প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দেয়—এতে কি রোজা ভেঙে গেল? অথচ ফিকহের দৃষ্টিতে এমন অনেক কাজ রয়েছে, যেগুলো ঘটলেও রোজা ভাঙে না। নিচে সেসব কারণ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।
ভুলক্রমে পানাহার বা সহবাস
রোজা থাকা অবস্থায় ভুলে খাওয়া, পান করা বা স্ত্রীসম্ভোগ হয়ে গেলে রোজা ভাঙে না। তবে স্মরণ হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ছেড়ে দিতে হবে। স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও শরীরিক সামর্থ্য বিবেচনা করা উচিত।
অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু গলায় চলে যাওয়া
ধোঁয়া, ধুলাবালি, মশা বা মাছি অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় চলে গেলে রোজা নষ্ট হয় না। কারণ এতে ইচ্ছা বা নিয়ত নেই।
স্বপ্নদোষ
ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত বিষয়।
তেল, সুরমা ও শিঙা লাগানো
শরীরে তেল লাগানো, চোখে সুরমা দেওয়া বা শিঙা লাগালে—even যদি তার স্বাদ অনুভূত হয়—রোজা ভাঙে না।
কান ও নাক সম্পর্কিত বিষয়
কান খোঁচানোর ফলে ময়লা বের হয়ে আবার কানে ঢুকলেও রোজা ভাঙে না। একইভাবে নাকের শ্লেষ্মা মুখে এনে গিলে ফেললেও রোজা নষ্ট হয় না।
মেসওয়াক করা
রোজা অবস্থায় যেকোনো সময় মেসওয়াক করা বৈধ—চাই তা কাঁচা হোক বা শুকনো।
দাঁত থেকে রক্ত বের হওয়া
দাঁত থেকে অল্প রক্ত বের হয়ে থুতুর সঙ্গে গলায় চলে গেলে রোজা ভাঙে না, যতক্ষণ না রক্তের পরিমাণ থুতুর চেয়ে বেশি হয়।
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার
চানা বুটের চেয়ে ছোট কোনো বস্তু দাঁতের ফাঁকে থেকে গলায় চলে গেলে বা গিলে ফেললেও রোজা ভাঙে না।
ঘ্রাণ গ্রহণ
ফুল, আতর বা মৃগনাভির ঘ্রাণ নিলে রোজা নষ্ট হয় না।
থুতু ও সামান্য বস্তু
নিজের মুখের থুতু গিলে ফেললে রোজা ভাঙে না। একইভাবে তিল পরিমাণ কোনো জিনিস মুখে নিয়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেলে এবং কোনো স্বাদ গলায় অনুভূত না হলে রোজা নষ্ট হয় না।
ঘাম ও অশ্রু
কপালের ঘাম বা চোখের অল্প অশ্রু গলায় পৌঁছালে রোজা ভাঙে না। তবে পরিমাণ বেশি হয়ে গলায় স্বাদ অনুভূত হলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।
ইনজেকশন ও টিকা
সাধারণ ইনজেকশন বা টিকা নেওয়ায় রোজা ভাঙে না। তবে এমন ইনজেকশন, যা রোজার কষ্ট কমায়, তা মাকরুহ হতে পারে।
রক্ত বের হওয়া
ইনজেকশন, শিঙা বা ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে দুর্বলতার আশঙ্কা থাকলে তা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
দংশন ও চিকিৎসা
সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে রোজা ভাঙে না। চিকিৎসার প্রয়োজনে শুকনো যন্ত্র শরীরে প্রবেশ করিয়ে বের করলেও রোজা নষ্ট হয় না।
গোসল ও পানিতে থাকা
ঠাণ্ডার জন্য কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া বা গোসল করা মাকরুহ নয়। এমনকি গরমের কারণে দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলেও রোজা ভাঙে না।
গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় রোজা
স্বপ্নদোষ বা সহবাসের কারণে গোসল ফরজ থাকলেও সুবেহ সাদিকের আগে গোসল না করে রোজার নিয়ত করলে রোজা সহিহ থাকে।
চোখ ও মাথার ওষুধ
রোজা অবস্থায় মাথা বা চোখে ওষুধ ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয় না।
দৃষ্টিপাতজনিত বীর্যপাত
শুধু দৃষ্টিপাতের কারণে যদি বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না।