
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ বা তালা খুলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এই তৎপরতার পেছনে কী কারণ রয়েছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির প্রকাশনা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে দলীয় কার্যালয় বাজেয়াপ্ত বা সিলগালা করা হয়নি। আত্মগোপনে থাকা দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কার্যালয় নিষিদ্ধ বা অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাই সেখানে যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়—এমন ধারণা থেকেই অনেক নেতাকর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন।
নির্বাচনের পর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ভেতরে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা করার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। আবার কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল বা হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির সংগঠন পুনর্গঠনের এক ধরনের প্রাথমিক তৎপরতা হতে পারে। যদিও প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ, তবুও মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি জানান দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনা নিয়মিত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। সেখানেই তিনি কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচি দিয়ে সেখানে গিয়ে মারধরের শিকার হন। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, এই ঘটনা কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সাহস জুগিয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে কিছু এলাকায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ভোটের সমর্থন পাওয়ার আশায় তারা নির্বাচনের পর কার্যালয় খুলতে বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে কোথাও কোথাও সেই আশ্বাস বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট দলের ভেতরের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ। ফলে কার্যালয় খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও সংগঠনগত উপস্থিতি ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের একটি অংশ ঝুঁকি নিয়েই মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আইনগত সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় উত্তপ্ত হতে পারে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।