
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। শনিবার দুপুরে তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন-এর কাছে নিজ হাতে এ পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের প্রশাসনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উপাচার্য শনিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এখনো পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ ও অব্যাহতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পরই তার অব্যাহতি চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনেও রদবদল আসে। ওই বছরের ২৭ আগস্ট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন।
তবে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে, এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি জানান, দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবছেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইন্সটিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।
১৯৯৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের University of Wales, সোয়ানসি থেকে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, থাইল্যান্ডের Asian Institute of Technology এবং University of Oxford থেকে তিনটি পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষা প্রশাসনে তার অভিজ্ঞতাও উল্লেখযোগ্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি Independent University, Bangladesh-এর উপ-উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় তার দীর্ঘ কর্মজীবন রয়েছে। তিনি ইউএনডিপি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, ইউএসএআইডি এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের এই ঘটনা শিক্ষা অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির পর কে দায়িত্ব নেবেন—সে বিষয়েও কৌতূহল বাড়ছে। আপাতত সংশ্লিষ্ট মহল পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।