
রমজান মাসে দোকানে ক্যারম খেলা ও টিভি চালানো বন্ধের নির্দেশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আওতাধীন পাটিকাবাড়ি ক্যাম্পের ইনচার্জ মসিউল আজম এক চা দোকানে গিয়ে এমন নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি গত শুক্রবারের। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক চা দোকানের সামনে ক্যারম খেলা চলছিল। এ সময় মসিউল আজম কড়া ভাষায় দোকানিকে বলেন, “ওই যে ক্যারম খেলতেছে। আমি বন্ধ করে দিছি কিনা? কেন চলল? আমি সেদিন বাজার কমিটিকে ডেকে বলে গেছি না, তারাবির এক মাস কোনো ক্যারম, কোনো টিভি চলবে না।” এরপর তিনি ক্যারম বোর্ডের দিকে এগিয়ে যান।
সেসময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “রমজান মাস, ইবাদতের মাস। যা-ই করবেন, নামাজের সময় যেন এইসব না করেন।”
ঘটনার পরদিন রাত ৮টার দিকে বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। কেউ কেউ দোকান খুললেও শাটার অর্ধেক নামিয়ে রেখেছেন। একটি চায়ের দোকানে টিভি চালু থাকলেও ক্যারম খেলা বন্ধ ছিল।
চা বিক্রেতা রমজান বলেন, “আমার এখানে কয়েকজন লোক বসে। তারা একটু টিভি দেখে।”
ওই সময় উপস্থিত স্থানীয় কাশেম মেম্বার বলেন, “হঠাৎ এসব বন্ধ করে দেওয়া ঠিক না। তরুণদের বিনোদন ও খেলাধুলার প্রয়োজন আছে। আমাদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও মাঝে মাঝে খেলতে আসেন। তবে টাকা দিয়ে ক্যারম খেলা ভালো না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসিউল আজম বলেন, “এটা ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি তো কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিইনি।” তিনি দাবি করেন, ওপর মহলের নির্দেশেই এমন কথা বলা হয়েছে।
তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, দোকানিদের বিষয়ে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দিন বলেন, “এটা কোনো পুলিশি নির্দেশনা না। রোজার দিনে চায়ের দোকান খোলা থাকবে কিনা, সেটা আইন-কানুনের বিষয় নয়। এটা মানুষের অনুভূতির বিষয়। এ জন্য কাউকে জেল-ফাঁস দেওয়া যাবে না।”
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর পক্ষে মত দিলেও, অন্যরা বলছেন— আইনি ভিত্তি ছাড়া এমন নির্দেশনা দেওয়া ঠিক নয়।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন বহির্ভূত কোনো নির্দেশনা কার্যকর করা হবে না।