
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক সার ব্যবসায়ী। তেলবাহী লরির চাপায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা দুই ছেলে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের মাঝে এই দুর্ঘটনা গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে। নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুর থেকে কবিরহাটের দিকে যাওয়ার পথে সোনাপুর–কবিরহাট সড়কের সুন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলের ওপর উঠে যায়।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম মো. শফিক। বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন সার ব্যবসায়ী ছিলেন। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন তার দুই ছেলে—শাকিল (২১) ও মো. একা (১৯)। দুর্ঘটনার সময় তারা একই মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে যমুনা কোম্পানির একটি তেলবাহী লরি সোনাপুর এলাকা থেকে কবিরহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছানোর পর লরিটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি মোটরসাইকেলে থাকা শফিক ও তার দুই ছেলেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মো. শফিকের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহত দুই যুবককে উদ্ধার করেন। পরে তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনাকবলিত লরির চালককে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লরিটি জব্দ করা হয়েছে।
কবিরহাট থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন, সোনাপুর–কবিরহাট সড়কে প্রায়ই ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে করে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা সড়কে নজরদারি বাড়ানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।