
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গ্রিনল্যান্ডে একটি ভাসমান হাসপাতাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো সেখানে অসুস্থ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা না পাওয়া মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন, “লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সঙ্গে মিলে আমরা গ্রিনল্যান্ডে একটি বড় হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছি। এটি অসুস্থদের সেবা দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছে।” পোস্টে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটি ইতিমধ্যেই রওনা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস বা ল্যান্ড্রির অফিসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। জাহাজটি গ্রিনল্যান্ড বা ডেনমার্কের অনুরোধে পাঠানো হচ্ছে কিনা, এবং কে বা কারা সেবাটি পাবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক দপ্তরও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডরিক গ্রিনল্যান্ড সফর করেছেন। ট্রাম্পের দ্বীপটি কিনে নেওয়ার আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের ঐক্য প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া গত মাসের শেষ দিকে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে সমস্যার সমাধানের জন্য।
ডেনমার্কের জয়েন্ট আর্কটিক কমান্ড জানিয়েছে, ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রিনল্যান্ডের জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের নাবিকের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল। পরে নাবিককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে জেফ ল্যান্ড্রির ভূমিকা বা ট্রাম্পের পোস্ট ও ওই উদ্ধার অভিযানের সম্পর্ক স্পষ্ট নয়।
মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি হাসপাতাল জাহাজ আছে—USNS Mercy এবং USNS Comfort। তবে এই জাহাজগুলোর মধ্যে কোনোটিই লুইজিয়ানায় অবস্থান করছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার ভিত্তিতে এই জাহাজের গ্রিনল্যান্ডে প্রেরণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রমের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কৌশলগত এবং মানবিক উভয় উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করছে। গ্রিনল্যান্ডে ভাসমান হাসপাতাল পাঠানো মানে কেবল চিকিৎসা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং আর্কটিক অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং কৌশলগত পদক্ষেপগুলো মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। মানবিক দিক থেকে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দূরবর্তী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সীমিত। ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে সেখানকার জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সহজতা আসতে পারে।