
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় রোববার ভোরে পাকিস্তান বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলায় প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বৈঠকে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
আফগান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তান এই হামলার মাধ্যমে আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে। সরকারের অবস্থান, কাবুলের জবাব দেওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে প্রতিশোধমূলক হামলা কখন চালানো হবে তা তালেবান নেতাদের দ্বারা নির্ধারণ করা হবে।
আফগান সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানায়, পাকিস্তান নতুন করে হামলা চালিয়ে পূর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে আফগান সরকার মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্ক—কে অবহিত করেছে।
হামলা চালানো হয়েছে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে। পাকিস্তান দাবি করেছে, গোয়ন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানাকে লক্ষ্য করে সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে। তবে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে ডজনখানেক বেসামরিক নিহত হয়েছেন।
গত বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি স্থাপন করা হলেও সম্প্রতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ায় আফগানিস্তানকে দায়ী করে দেশটি নতুন হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আফগান তালেবান সরকার কূটনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান ও পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
আফগান সরকার ইতোমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে যাতে সম্ভাব্য সংঘাত সীমিত রাখা যায়। তালেবান সরকার জানিয়েছেন, সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তবে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা কবে এবং কিভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রতিবেশী দেশগুলোর নজর কেড়েছে। সীমান্তে এ ধরনের হামলা আফগানিস্তান- পাকিস্তান সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। এছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তালেবান সরকার বলেছে, পাকিস্তানকে পাল্টা জবাবের বিষয়টি তারা “পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনার” মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও বেসামরিক ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।