
সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক ও যুবলীগ নেতা সোহেল রানা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তার মায়ের জানাজায় উপস্থিত হন। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং মায়ের জন্য সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ করেছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রায় এক দশক পর কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভার পৌর এলাকার মাদরাসা মসজিদে মায়ের জানাজায় অংশ নেন। সোহেল রানা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “আমার মা’র জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আমার ভুলের জন্য আমাকে মাফ করবেন সবাই।”
রানার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার চাচি মর্জিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতের মধ্যে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে প্যারোলে আবেদন করা হলে সোহেল রানাকে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পুলিশ সাভারে নিয়ে আসে। এই সময় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
জানাজা শেষে পুলিশ তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যা সাড়ে ৭ টার দিকে সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, সাভারে সোহেল রানা মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ছিল বেশ গোপনীয়ভাবে রাখা।
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার সময় তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সোহেল রানা পরিবারিক শোককালে নিজের দায়বোধ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
সোহেল রানা বাংলাদেশে রানা প্লাজার ধ্বংসের পর থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর পারিবারিক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে অল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মায়ের জানাজায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি সোহেল রানা নিজের ভুলের জন্য মাফ চাওয়ার মাধ্যমে একটি মানবিক এবং নৈতিক বার্তা দিয়েছেন। এটি ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক শোকের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, প্যারোলে মুক্তির সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সোহেল রানার মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে সংবাদে গুরুত্ব পেয়েছে।